সেবার মান নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি রোগী-স্বজনদের দায়িত্বশীলতাও কি জরুরি নয়?
নোয়াখালী খবর এক্সপ্রেস | বিশেষ প্রতিবেদন
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা, সেবার মান কিংবা নানা অনিয়ম নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু হাসপাতালের চিত্রের অন্য একটি দিক নিয়ে আমরা কতটা ভাবি?
আমরা যারা চিকিৎসা নিতে সরকারি হাসপাতালে যাই, হাসপাতালের পরিবেশ ও নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেরা কতটুকু সচেতন?
সম্প্রতি ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বেড ও আশপাশের জায়গা এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালকে আমরা কি কখনো কখনো নিজেদের বাড়ির মতো ব্যবহার করছি না?
একটি সরকারি হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের নয়। রোগী ও স্বজনদেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
হাসপাতালের বেডের সঠিক ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অপ্রয়োজনে ভিড় না করা, নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানো—এসব বিষয়ে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
অবশ্যই সরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে নিজেদের দায়িত্বও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
কারণ হাসপাতাল শুধু কর্তৃপক্ষের নয়—এটি জনগণের সম্পদ, জনগণের সেবার জন্যই তৈরি।
তাই প্রশ্নটা শুধু—“সরকারি হাসপাতাল আমাদের কী দিচ্ছে?”
প্রশ্নটা আমাদের নিজেদের কাছেও—
“হাসপাতালের প্রতি আমরা কতটুকু দায়িত্বশীল?”
কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন রোগী ও স্বজনদের সচেতনতা। দুই পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ববোধই পারে সরকারি হাসপাতালের পরিবেশকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও রোগীবান্ধব করে তুলতে।
নোয়াখালী খবর এক্সপ্রেস—সত্যের সন্ধানে অবিচল।











Leave a Reply