নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে পোনা অবমুক্ত করার সময় কিছু মাছকে মৃত অবস্থায় দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি মৎস্য অধিদপ্তরের দায়িত্বে ছিল না। আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাছের অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে কিছু পোনা মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবার নিরাপত্তাজনিত কারণে মাছের পাত্রের অক্সিজেন সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল—এমন দাবিও প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এখন স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে।
যে বিষয়গুলো তদন্ত করা প্রয়োজন
১. মাছের পোনা সংগ্রহ ও পরিবহনের দায়িত্বে কারা ছিলেন?
২. পোনাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল?
৩. পোনা সংগ্রহ ও পরিবহনের সময় পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা ছিল কি?
৪. কতটি পোনা আনা হয়েছিল এবং অনুষ্ঠানের আগে কতটি মারা যায়?
৫. মাছ সংরক্ষণের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল?
৬. নিরাপত্তার কারণে অক্সিজেন সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকলে বিকল্প অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি?
৭. মাছগুলো অবমুক্ত করার আগে মৎস্য বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না?
৮. মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে কোনো তদন্ত বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা হয়েছে কি?
দুর্নীতির অভিযোগ নয়, প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত
মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাকে সরাসরি দুর্নীতি বলা যাচ্ছে না। তবে পোনা সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও অবমুক্তকরণের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে যদি সরকারি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থে পোনা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তাহলে ক্রয়মূল্য, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাবও স্বচ্ছ থাকা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি ছোট করে না দেখে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
নোয়াখালী খবর এক্সপ্রেস
সত্যের সন্ধানে অবিচল












Leave a Reply