🔴 বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষকের মারামারি, ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ঘটনা, দুই শিক্ষককে শোকজের প্রস্তুতি
নোয়াখালী খবর এক্সপ্রেস | শিক্ষা সংবাদ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। মারামারিতে জড়িত দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জেরে ১০ থেকে ১২ দিন আগে এ ঘটনা ঘটে। তবে সম্প্রতি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৪ বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকেন। তাঁদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। দুজনই ২০১১ সালের দিকে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন বলে জানা গেছে।
প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও পারিবারিক বিরোধের জেরেই মারামারির ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, তাঁদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দূরত্ব থাকলেও বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও দুই-তিনবার বিদ্যালয়ে তাঁদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
সহকারী শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
দুই শিক্ষককে শোকজের প্রস্তুতি
আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯০ জনের বেশি।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগের। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুধবার সংশ্লিষ্টদের শোকজের চিঠি দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নোয়াখালী খবর এক্সপ্রেসের সঙ্গে থাকুন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে আমাদের পেজে চোখ রাখুন।












Leave a Reply